অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নিজ স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি নিজেই পুলিশকে ফোন করে খবর দেন।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত স্ত্রীর বয়স ৪৬ বছর এবং দুই সন্তানের বয়স যথাক্রমে ১২ ও ৫ বছর। তিনজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে অভিযুক্ত ওই বাংলাদেশির নাম প্রকাশ করেনি প্রশাসন। তাকে গ্রেপ্তার করে পারিবারিক সহিংসতার মাধ্যমে খুনের তিনটি পৃথক অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ক্যাম্পবেলটাউন আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি। তার আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ হেফাজতে থাকা তার মক্কেল মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
তবে অভিযুক্তের আগে কোনো মাদক গ্রহণ, মানসিক সমস্যা বা পারিবারিক সহিংসতার ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে আইনজীবী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে প্রায় এক দশক আগে তারা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। নিহত দুই শিশুরই বিকাশজনিত সমস্যা ছিল এবং তাদের মা একাই পরিবারের উপার্জন করতেন। আর অভিযুক্ত বাবা ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মিশেল মরোনি ঘটনাস্থলকে 'অত্যন্ত নৃশংস অপরাধস্থল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, বাড়িটির ভেতর থেকে এমন কিছু বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে সেখানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র মেলেনি।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এমনকি শিশু সুরক্ষা সংস্থা বা সমাজসেবা বিভাগের সঙ্গেও এই পরিবারের আগে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহত শিশু দুটি সবসময় হাসিখুশি থাকত এবং তাদের প্রায়ই বাড়ির বাইরে খেলতে দেখা যেত। এমন ঘটনায় পুরো ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মাইনস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক সহিংসতা মোকাবিলায় আসন্ন বাজেটে রাজ্য সরকার আরও অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট